দেশজুড়ে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছেন কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের উদ্যোক্তারা। পাবনার মেটাল ওয়ার্কশপ, ধামরাইয়ের পাদুকা শিল্প কিংবা কেরানীগঞ্জের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারখানাগুলো দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো বিকল্প জেনারেটরের ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ সিএমএসএমই (CMSME) প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অথচ বর্তমানে কোনো কোনো শিল্প এলাকায় দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অর্থনীতির এই মূল চালিকাশক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ায় লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে; অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত সঞ্চয় ভেঙে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করছেন।
জাতীয় গ্রিডে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হলেও প্রাথমিক জ্বালানি ঘাটতির কারণে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি কক্সবাজারে অবস্থিত ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এর জেরে ১১ আগস্ট জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩হাজার ৭ মেগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি হ্রাস এবং কাঁচামালের চড়া দামের এই মন্দাকালে বিদ্যুৎ সংকট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এ বিষয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেলে কারখানাগুলো সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারবে না। ফলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আপনার মতামত দিন