ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরান বাজার ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা না টাঙানোর কারণে পরিবহনকর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই বাগ্বিতণ্ডা এবং হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ও শাহবাগ থেকে গাবতলীগামী যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার এই অভিযোগ করেন। এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল এবং কাওরান বাজারের ওয়েলকাম, প্রজাপতি ও বিকল্প পরিবহণের বাসেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র দেখা গেছে। রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মো. সাকিব হাওলাদার দাবি করেন, নতুন তালিকা হাতে না পাওয়ায় তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকায় দূরপাল্লার কিছু পরিবহণের কাউন্টারের বিরুদ্ধেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা-কুয়াকাটা, ঢাকা-নবীনগর এবং ঢাকা-পিরোজপুর রুটে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। তবে কিছু কাউন্টারে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। ঢাকা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলম দেওয়ান বলেন, নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন ও তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ কেউ বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডিজেলচালিত বড় বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া দুই টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। মহানগরীতে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের ৮ টাকা রাখা হয়েছে। মন্ত্রী নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিলেও গতকাল রাজধানীতে ভাড়া তদারকিতে কোনো অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন