বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ পছন্দ করে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এই সামুদ্রিক মাছটি মূলত ডিম পাড়তে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীগুলোতে আসে। বাজারে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা ও চড়া দামের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় চন্দনা ও সুরমা মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করছেন। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় সাধারণ ক্রেতারা এসব মাছ কিনে প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না করা অবস্থায় আসল ইলিশ ও অন্য মাছের পার্থক্য বোঝা খুবই মুশকিল।
চন্দনা বা সুরমা মাছ দেখতে কাছাকাছি হলেও এগুলোর স্বাদ ও সুবাস আসল ইলিশের ধারেকাছেও থাকে না। তাই প্রতারণা এড়াতে বাজার থেকে মাছ কেনার আগে আসল ইলিশ চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আসল ইলিশ চেনার সহজ কিছু উপায়:
১. দেহের গঠন: আসল ইলিশের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে বেশ পুরু এবং পিঠ ও পেটের দিক প্রায় সমানভাবে উত্তল হয়ে থাকে।
২. আকার: পূর্ণাঙ্গ ইলিশ সাধারণত বেশ বড় হয় এবং লম্বায় ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
৩. মাথা ও চোখ: ইলিশের মাথার আকৃতি কিছুটা লম্বাটে ও অগ্রভাগ সুচালো হয়। এছাড়া আসল ইলিশের চোখের আকৃতি তুলনামূলক ছোট থাকে।
৪. পাখনা: ইলিশের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগ এবং পুচ্ছ পাখনার কিনারা কিছুটা সাদাটে রঙের হয়।
৫. আইশ ও স্কুইটস: মাছের পার্শ্বরেখা বরাবর এক সারিতে ৪০ থেকে ৫০টি আইশ থাকে। পাশাপাশি ইলিশের পেটের নিচে ৩০ থেকে ৩৩টি পর্যন্ত স্কুইটস বা খাঁজকাটা অংশ থাকে।
৬. কালো ফোঁটা: আসল ইলিশের কানকুয়ার ঠিক পেছনে একটি বড় কালো ফোঁটা এবং এরপরে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট আরও কিছু কালো ফোঁটা থাকে।
৭. মাথার অনুপাত: ইলিশের মাথার দৈর্ঘ্য মাছের মোট আদর্শ দৈর্ঘ্যের শতকরা ২৮ থেকে ৩২ ভাগ হয়ে থাকে।
বাজার থেকে মাছ কেনার সময় কাটা বা টুকরো না কিনে সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া উচিত। কেনার সময় মাছের বাহ্যিক গঠন, উজ্জ্বল রূপালি রং ও গায়ের দাগ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই আসল ইলিশ চিনে কেনা সম্ভব।

আপনার মতামত দিন