ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানযোগে ঢাকায় ফেরেন তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের স্টুডিওর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের মূল ঠিকানাটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং তাতে অস্বীকৃতি জানানোই এই হামলার মূল কারণ।
পরদিন রোববার সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সালমান মুক্তাদির। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি তাঁর কোনো আস্থা বা বিশ্বাস নেই। তবে চাঁদা দাবির গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁর কাছে সরাসরি কেউ চাঁদা চায়নি; বরং পুলিশ ও অন্যদের মুখ থেকে তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার কাছে চাইলে আমি ডেফিনেটলি দিতাম, অফকোর্স আমি... যদি আমার পোষাইতো, অবশ্যই দিতাম।’
সামনে আসা ভিডিও ফুটেজে স্টুডিওর ভেতরের ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ভেঙে পড়ে আছে মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইউটিউবের মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন প্লে বাটন। কাঁচের দরজা-জানালা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে, আসবাবপত্র ও সোফা উল্টে পড়ে আছে এবং ফ্লোরজুড়ে ছড়ানো রয়েছে জরুরি কাগজপত্র, ফোমসহ নানা সরঞ্জাম।
ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও সালমান জানান, ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি বলেন, ‘যদি শুধুমাত্র ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরেন, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ হয় আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০ টা ক্লায়েন্টের যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হইতে পারে এটা যদি চোখ বন্ধ করেও কিছু একটা ধারণা করা হয়, কিন্তু এখন জানি না। লিগ্যালি এটা আমি শিওর না হয়ে বলতে পারছি না।’
সবশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কাজের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞ বা হামলা তাঁকে কোনোভাবেই তাঁর পথ থেকে থামাতে পারবে না।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন