মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কার প্রকল্পে কথিত আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিনেতা দিনো মোরিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশের তদন্তে কেতন কদমের সঙ্গে দিনো মোরিয়ার যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে দিনো ও তার ভাই স্যান্টিনো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইওডব্লিউ।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দরপত্রে কারসাজি, অতিরিক্ত খরচ দেখানো এবং ভুয়া বিল তৈরির মতো অনিয়ম হয়েছে। ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের কথিত ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইওডব্লিউ) অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রকল্পের অনিয়মের কারণে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) প্রায় ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি হয়েছে।
তদন্তে স্যান্টিনোর প্রতিষ্ঠান ইউবিও রিডজ প্রাইভেট লিমিটেডের আর্থিক লেনদেনও নজরে আসে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে ১৮ লাখ রুপি পাঠানো হয়েছিল। ওই অর্থ মিঠি নদীর প্রকল্পের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, মিঠি নদীর খনন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ভোডার ইন্ডিয়া এলএলপির সঙ্গে কেতন কদমের সম্পর্ক ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ও ইউবিও রিডজ একই ঠিকানা থেকে পরিচালিত হতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রকল্পের দরপত্রের শর্ত নির্ধারণ নিয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ধরনের যন্ত্রপাতির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে দরপত্র তৈরি করা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতির সঙ্গে মিলে যায়। পরে ঠিকাদারদের বেশি দামে ওই যন্ত্রপাতি ভাড়া নেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। নদী থেকে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ পলি সরানো হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী কত টাকা বিল দেওয়া হয়েছিল, সেটিও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। পলি পরিবহনের নামে ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় কেতন কদম ও জয়েশ যোশীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে একই ঘটনায় অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ২০২৫ সালের জুনে দিনো মোরিয়ার বান্দ্রার বাসভবনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় সংস্থাটি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।
২০০৫ সালের ভয়াবহ বন্যার পর মুম্বাইয়ের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসেবে মিঠি নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ ও চুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
তবে দিনো মোরিয়ার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
মাতুভূমি/এএইচ

আপনার মতামত দিন