বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ অক্টোবর। ২০১৯ সালের এই দিনে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর নির্মম শারীরিক নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও দণ্ডিত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকর না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার।
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশের বাসায় এখনো সযত্নে সাজানো রয়েছে আবরারের মোবাইল, ল্যাপটপ ও পড়ার টেবিল। কিন্তু নেই শুধু আবরার নিজে। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আর হাজারো স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটাচ্ছেন বাবা বরকত উল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুন।
ছেলের শেষ স্মৃতির কথা মনে করে বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। কিছুদিন আগে আমি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছিলাম, তাঁরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলেও এখনো তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখিনি। আমরা চাই, আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকুক এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হোক।"
আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর আক্ষেপ করে বলেন, "আমি বেঁচে থাকতে আমার নাতি আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চাই।"
মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও পলাতক আসামিদের বিষয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের এই রায় বহাল রাখেন। তবে দণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন (মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ) রায় ঘোষণার শুরু থেকেই এবং অপর আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যান। সব মিলিয়ে বর্তমানে চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের বার্তা দিয়ে গেছে, তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর দেখতে চান তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন