বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন এই গুণী অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার বর্তমানে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিজের সরল জীবনযাপনের জন্য আলাদা পরিচিতি ধরে রেখেছেন।
শৈশব থেকেই নানা পাটেকারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজের ভুবনে প্রবেশ করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রতিদিন প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি এবং দিনে এক বেলার খাবার।
পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেন। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি সিনেমাতেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি। কর্মজীবনের একপর্যায়ে প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত নন তিনি। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি সাধারণ ওয়ান-বিএইচকে ফ্ল্যাটেই বসবাস করে আসছেন এই অভিনেতা। এছাড়া গোয়ায় বাড়ি এবং পুনের খাডাকওয়াসলায় ২৭ একর জমির ওপর একটি ফার্মহাউস রয়েছে তার, যেখানে তিনি নিয়মিত কৃষিচর্চা করেন।
তার গাড়ি সংগ্রহের তালিকায় বিলাসবহুল কোনো সমাহার নেই; বরং মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭-এর মতো ব্যবহারিক গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। প্রায় দেড় কোটি রুপির একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও সেই অর্থ কৃষকদের কল্যাণে ব্যয় করতে পছন্দ করেছেন তিনি। কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসা নানা পাটেকারের জীবন তাই কেবল সাফল্যের গল্প নয়, বরং সংযম ও মানবতার এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন