কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় জড়িত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে একা পেয়ে চালক সুমন তাজমিনকে কৌশলে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যায় এবং একা পেয়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষযে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে এবং তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার সত্যতা মিলছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবার কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক শহরের দিকে না গিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে উল্টো পথে বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে জগতপুরের ধানখেতের দিকে এগোতে থাকে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠায়। তবে গভীর রাত হওয়ায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। জগতপুরে পৌঁছানোর পর তাজমিন আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও সুমনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ ও পরিত্যক্ত অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনেরা এসে তাজমিনের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবার কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের বাড়ি যশোরের ছাতিয়াতলা গ্রামে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন