কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা গুলিতে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএসএফের গুলিবর্ষণের পর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ কৃষকের নাম সাহাজুল (৪০)। তিনি স্থানীয় সাবাজের ছেলে।
বিজিবি সূত্র জানায়, জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে আনুমানিক ৩০০ গজ ভেতরে নিজের জমিতে ঘাস কাটছিলেন সাহাজুল। এ সময় ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নার্সারি ক্যাম্পের একটি টহলদল তাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। এতে তার কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত অংশ গুলিবিদ্ধ হয়।
ঘটনার পরপরই সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিএসএফের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের হাতে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হন। এছাড়া কাজল ঘোষ (৩০) নামে আরেক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারসহ সীমান্ত বাংকার নির্মাণ করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সাথে সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয়দের অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন