ঢাকার ধামরাইয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৯) অভিযুক্তের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কালীঘাট বাজারের একটি বাড়িতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইনি পদক্ষেপ এড়াতে স্থানীয় এক চৌকিদার ও মাতব্বরের মধ্যস্থতায় ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এ বিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র আলামিন হোসেন ওই শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সন্দেহ হয়। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে আলামিন ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও প্রথমে বিয়েতে অসম্মতি জানায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবার ধামরাই থানায় মামলা করতে গেলে থানা প্রাঙ্গণ থেকেই চৌকিদার বাসের আলী ও স্থানীয় মাতব্বর জিন্নাত আলী তাদের বুঝিয়ে ফেরত নিয়ে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে কাউয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল অভিযানে নামলে পুলিশকে এড়িয়ে কৌশলে একটি বাড়িতে এনে মসজিদের ইমাম দিয়ে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি ছাড়াই পড়ানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌকিদার বাসের আলী জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মামলা-মোকদ্দমা এড়িয়ে তারা বিষয়টি মীমাংসা করে বিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে কাউয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত মামলা বা অভিযোগ না দিলে পুলিশের সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সীমাবদ্ধতা থাকে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন