ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদান থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ নির্ভর করছেন তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ওপর। তবে এই জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারক চক্র। ফলে কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বজন বা বন্ধুদের কাছে অর্থ চেয়ে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার ফাঁদ পাতা হতে পারে। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হ্যাক হওয়ার লক্ষণগুলো:
নিজের অজান্তেই পরিচিতজনদের কাছে কোনো বার্তা চলে যাওয়া।
কোনো বার্তা নিজে না পড়া সত্ত্বেও তা ‘পঠিত’ (Read) হিসেবে চিহ্নিত থাকা।
কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ফোনে ওটিপি (ভেরিফিকেশন কোড) আসা।
প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস বা ব্যক্তিগত তথ্য নিজে পরিবর্তন না করলেও বদলে যাওয়া।
অপরিচিত কোনো ব্রাউজার বা ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকার সংকেত পাওয়া।
এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে অ্যাকাউন্টটি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে ফিরে পাওয়ার ৫ পদক্ষেপ:
১. নিজ নম্বর দিয়ে পুনরায় লগইন: দ্রুত নিজের নিবন্ধিত ফোন নম্বরটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে আবার লগইন করতে হবে। এসএমএস বা কলের মাধ্যমে পাওয়া ৬ সংখ্যার ওটিপি প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গেই অন্য কোনো ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট চালু থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগআউট হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই এই কোডটি কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।
২. প্রতারকের পাঠানো বার্তা মুছে ফেলা: অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পরপরই চ্যাটবক্স পরীক্ষা করে প্রতারকের পাঠানো টাকা ধার চাওয়ার বার্তা বা ফিশিং লিংক তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলতে হবে। পাশাপাশি প্রোফাইল ছবি ও তথ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. অপরিচিত ডিভাইস লগআউট: হোয়াটসঅ্যাপের ‘Settings’ থেকে ‘Linked Devices’ বিকল্পে গিয়ে তালিকায় থাকা সব সন্দেহজনক বা অপরিচিত ডিভাইস থেকে সঙ্গে সঙ্গে ‘Log Out’ করে দিতে হবে।
৪. স্বজন ও পরিচিতদের দ্রুত সতর্ক করা: নিজের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারক কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পরিচিতদের জানাতে হবে। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল জানিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিতে হবে।
৫. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা: ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘Settings’ থেকে ‘Account’-এ গিয়ে ‘Two-Step Verification’ সক্রিয় করতে হবে এবং একটি শক্তিশালী পিন কোড নির্ধারণ করতে হবে।
পিন চাইলে করণীয়:
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সময় টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিন চাইতে পারে। প্রতারক যদি অ্যাকাউন্ট দখলের পর নিজে পিন সেট করে থাকে, তবে ফোর্বসের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীকে কোনো কোড বা পিন ছাড়াই অ্যাকাউন্ট পুনরায় সেট করার জন্য সাধারণত সাত দিন অপেক্ষা করতে হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সামান্য অসচেতনতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাই যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই সুরক্ষার প্রধান উপায়।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন