জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটিতে লুটপাট চালানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দাঙ্গা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির মন্ত্রীরা।
গত শনিবার (৩০ অক্টোবর) জার্মানির বিভিন্ন শহরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামাজিক সেবা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট সংকোচন বন্ধের দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। ‘জেন জি রেগেল্ট’ (জেন জি দায়িত্ব নেবে) নামের একটি আন্দোলন গোষ্ঠী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হলেও ফ্রাঙ্কফুর্টে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক জানান, ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ১৭টি দোকানে ভাঙচুর ও পাঁচটি দোকানে লুটপাট চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সংঘর্ষে পুলিশের শতাধিক সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১৩ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা, পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডব্রিন্ট বলেছেন, দাঙ্গা ও ভাঙচুরে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই জার্মান নাগরিক। তবে পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় জড়িত অনেকের অভিবাসী পটভূমি রয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ হলেও সেখানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ছিল। এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন দোকান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিদেশি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো যেন সহিংসতা উসকে দিতে না পারে, সেজন্য আগেই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছিল।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন