স্পেনের তেনেরিফে ক্লাবের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিয়েল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগ লিগ 'সেহুন্দা ডিভিশন'-এ এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচের সময় গোলরক্ষকের সঙ্গে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র ৩০বছর বয়সে এই ফুটবলারের অকালপ্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।
গত সোমবার (২নভেম্বর) ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ২-২ সমতা থাকা অবস্থায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আন্দোরার গোলরক্ষক জেসুস ওনো মাঝমাঠের বৃত্তে একটি লম্বা বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে আসেন। সে সময় লাফিয়ে ওঠার সময় ওনোর হাঁটু সরাসরি আঘাত করে মিয়েলের মাথা ও বুকে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান তিনি।
মাঠে দীর্ঘক্ষণ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে মারা যান ৩০বছর বয়সি এই স্ট্রাইকার। কয়েকটি স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন তিনি। মিয়েলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার ক্লাব তেনেরিফে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
দে মিয়েলের এই আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবগুলোর পাশাপাশি শোক প্রকাশ করেছেন বার্সেলোনার সাবেক ডিফেন্ডার ও আন্দোরার অন্যতম মালিক জেরার্দ পিকে এবং লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, পেদ্রি, রদ্রি, থিবো কোর্তোয়া, সার্জিও রামোস ও লিওনেল মেসির মতো তারকারাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে মেসি লিখেছেন, ‘বলার কোনো ভাষা নেই… তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং তাদের জন্য অনেক শক্তি কামনা করি। শান্তিতে ঘুমাও।’
মিয়েলের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার স্প্যানিশ কাপের (নারী ও পুরুষ) সব ম্যাচ স্থগিত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোতে এক মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের অনুশীলনের সময়ও এই ফুটবলারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্প্যানিশ পুলিশ।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন