হোম / সারাদেশ / জনবল ও অবকাঠামো সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রাম জেনার...
সারাদেশ

জনবল ও অবকাঠামো সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
৩১ জুলাই, ২০২৬ | ১১:১০ অপরাহ্ন
৮০ বার পঠিত
ফন্ট:
চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের অভাব এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতাসহ হরেক সমস্যায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল।

চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের অভাব এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতাসহ হরেক সমস্যায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকটের কারণে জটিল রোগীদের পাঠানো হচ্ছে রংপুরে বা স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে। ফলে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন জেলার দরিদ্র মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তরঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি। অতিরিক্ত রোগীর চাপ বিবেচনায় ২০১৭ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ২৫০ শযয়ায় উন্নীত করা হয়। এ লক্ষ্যে পরবর্তীতে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আটতলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও নকশাগত ত্রুটির কারণে তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ওঠানামার জন্য ভবনটিতে নেই কোনো 'র‍্যাম্প' (ঢালু পথ), আর লিফট চালুর বিষয়টি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

শুধু অবকাঠামোগত অপ্রতুলতাই নয়, ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জানালার কাঁচ ভেঙে ও দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোগী, স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অন্যদিকে, চিকিৎসকের ১৭৭টি পদের বিপরীতে হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। এছাড়া অন্যান্য ৩৮৮টি শূন্যপদের বিপরীতে ২৩১টি পদই খালি পড়ে রয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে জরুরি ও বহির্বিভাগে সেবা দিতে হচ্ছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারদের (সেকমো)। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকের দেখা মেলাই ভার, প্রায় সব ধরণের চিকিৎসাতেই তাদের ভরসা করতে হচ্ছে সেকমোদের ওপর। এমনকি ভর্তি হওয়া রোগীরা দিনে একবারও চিকিৎসকের দেখা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকা এবং প্রায় ২০ বছর পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করতে গিয়ে পথিমধ্যে বিকল হওয়ার মতো ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র।

চিকিৎসক সংকট প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ জানান, নিয়োগ পাওয়া অনেক চিকিৎসকই উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তায় বদলি বা ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এবং দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে উত্তরঞ্চলের এই বড় হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভূক্তভোগীরা।

ক
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+