অল্প সময়ে, কম খরচে ভালো ফলন এবং কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এ বছর পাটের চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৯১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ২৩৭৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট পাচ্ছেন এবং বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পাট সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত পাটকাঠি বা পাটখড়ি বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ মণ উৎপাদিত হচ্ছে, যা চার থেকে পাঁচ শ টাকা মণ দরে বিক্রি করে বাড়তি লাভ পাচ্ছেন চাষিরা। মনাকষা ইউনিয়নের পাটচাষী জালাল উদ্দিন জানান, ১৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে সব খরচ বাদে তার প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তার মতো মিলন আলী, আবু হোসেন, সাদিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক পাট চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
উত্থান ঘটেছে নতুন কর্মসংস্থানেরও। অনেক বেকার যুবক কৃষকদের কাছ থেকে জমিতেই বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় পাটগাছ কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি, পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়ে শিবগঞ্জের শত শত গ্রামীণ নারী ও বিধবা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে নিজ পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর শিবগঞ্জে বিজেআরআই-৮ (বারি-১), বিজেআরআই-৯, জেআরআই পাট-৫, সিভিই-৩, সিসি-৪৫ ও এইচএস-২৪ জাতের তোষা ও দেশী পাট চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০৩.৭৫ মেট্রিক টন। প্রণোদনা হিসেবে ৩৫০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পাটবীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পলিথিন রোধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম। এছাড়া কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন