আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ঢালিউডের ক্ষণজন্মা ও চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ ৫৬ বছরে পা রাখতেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি পরবর্তীতে রূপালি পর্দায় সালমান শাহ নামে পরিচিত লাভ করেন।
অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পা রেখে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে যে স্থায়ী আসন গেড়েছেন, তা তিন দশক পরেও সমানভাবে অমলিন।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমাতেই তার অনন্য অভিনয় ও জাদুকরী পর্দার উপস্থিতি দর্শকদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছান। শুধু অভিনয়শৈলীই নয়, তার ফ্যাশন, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল আইকনিক। তিনি কেবল একজন চলচ্চিত্র তারকা ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একটি পুরো প্রজন্মের আবেগ, ফ্যাশন ট্রেন্ড ও স্বপ্নের প্রতীক।
তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সেই সোনালী স্বপ্নযাত্রা আকস্মিকভাবে থেমে যায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অকালমৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করে।
সময়ের বিবর্তনে চলচ্চিত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন প্রজন্মের বহু তারকা দর্শকের সামনে এসেছেন; তবুও সালমান শাহর জনপ্রিয়তা একটুও ম্লান হয়নি। বরং মৃত্যুর তিন দশক পরও তাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তাকে দেখেছেন মৃত্যুর বহু বছর পর, তবুও তার অভিনীত সিনেমা, গান ও বিভিন্ন ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে ভক্তদের শ্রদ্ধার্ঘ্য ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে ভার্চুয়াল জগত। পরবর্তী প্রজন্মের অনেক নায়কও তাকে নিজেদের অভিনয়ের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে স্বীকার করেন।
সালমান শাহর জীবনকাল সংক্ষিপ্ত হলেও তার রেখে যাওয়া প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো অভিজ্ঞ এই অভিনেতা আরও বহু বৈচিত্র্যময় চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনার গল্প আজ কেবলই কল্পনার। বাস্তবে তিনি ২৫ বছর বয়সেই থেমে গেলেও কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরতরুণ নায়ক হয়ে বেঁচে আছেন।
কাল পরিক্রমায় সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সালমান শাহর প্রতি বাংলা সিনেমা প্রেমীদের ভালোবাসা আজও অটুট। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যখনই তার নাম উচ্চারিত হয়, তখনই ফিরে আসে এক আবেগময় ও সোনালী স্মৃতির দিনগুলো।

আপনার মতামত দিন