চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক প্রশিক্ষণের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের ঘটনায় দুই সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা এবং ব্যবহৃত সরঞ্জামের কারিগরি মান নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পর আইএসপিআরের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার কথা জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস ও সৈনিক তাসনিম রিফাত নিহত হন। এছাড়া গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত ‘Type-59’ ট্যাংকের একটি বড় অংশকে পরবর্তীতে দেশীয় ও চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় ‘Type-59G Durjoy’ মানে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তবে হাটহাজারীতে ঠিক কোন সংস্করণের ট্যাংকটি ব্যবহৃত হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা কেবল পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
এদিকে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে গেল যখন বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে নতুন করে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে খসড়া চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং দেশীয় সামরিক বাহিনীতে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও নৌযানসহ নানা অস্ত্রশস্ত্র চীন থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
সামরিক ফায়ার অনুশীলন স্বভাবতই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। তাই এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং অস্ত্র ও গোলাবারুদের কারিগরি মান, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, এবং নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছিল কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা এখন আইএসপিআরের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছেন, যা থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।

আপনার মতামত দিন