ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের জেরে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মিছিল করেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি তার আমলে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা পরিবর্তনের একটি স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
দিল্লি, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও গোয়াসহ দেশের একাধিক রাজ্যে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্থানে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোথাও কোথাও জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে আসামে লোকসভার কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং সমতার অধিকারের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ‘বিএলও অ্যাপে’ ‘মার্ক ভিআইপি’ নামক একটি বিশেষ ব্যবস্থার চালুর অভিযোগও তুলেছে দলটি। দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আজ গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তাই পুরো বিষয়টির একটি স্বাধীন অডিট প্রয়োজন।
কলকাতায় কংগ্রেসের মিছিল আটকে দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করেন। পাটনা ও চণ্ডীগড়েও পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে মিছিল থামায়। এছাড়া মণিপুরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।
এই দেশজুড়ে উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশন এই আপত্তিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক বিভেদের প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক পরামর্শ, অভ্যন্তরীণ মতামত বা ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং এসআইআরসহ সকল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধী দলগুলো সংসদে অভিশংসন বা অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হতে পারে।
সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন