মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা জেনোসাইড মামলার রায় চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ দিক অথবা নভেম্বরের শুরুর দিকে ঘোষণা করা হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো এই তথ্য জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো বর্বরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন জোরালো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন মানবতার টানে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে। জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে এই মামলা করার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এর মূল শুনানি শেষ হয়।
সাক্ষাৎকার দাউদা এ. জালো বলেন, শুনানিকালে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতে হাজির করে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া পৈশাচিকতার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট ইমেজ, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, এনজিওর রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্যসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের সামনে পেশ করা হয়েছে। প্রচুর পরিমাণ অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করায় গাম্বিয়া মামলার রায় নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের মিয়ানমারের নিজস্ব আইনের আওতায় বিচারের নির্দেশ আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
গাম্বিয়া আশা করছে, রায়ে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, ভিটেমাটিতে প্রত্যাবাসন, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকারের মতো প্রতিকারগুলো নিশ্চিত হবে। এছাড়া মিয়ানমার যদি আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় অমান্য করে, তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আইসিজের রায়কে একটি শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলে জানান গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন