দেশে দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগে ভুগছেন আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর হৃদরোগে মারা যান দুই লাখের বেশি মানুষ। প্রতিদিন গড়ে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৭২০ জন এবং মৃত্যু হচ্ছে ৫৬২ থেকে ৭৭৭ জনের।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবলের অভাব: সরকারি মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের অনেক পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল, মুগদা, বরিশাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ক্যাথল্যাব অচল হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রংপুরেও ক্যাথল্যাব সচল রাখা নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ চিকিৎসার ৯০ শতাংশ উন্নতি ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও দেশের ৯০ শতাংশ রোগীই থাকেন ঢাকার বাইরে।
প্রধান ঝুঁকিগুলো:
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি গ্রহণ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
উত্তরণের উপায়:
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রাখলে বিপুল রোগীর চাপ সামলানো সম্ভব নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সচল ক্যাথল্যাবের সুব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’ বা ‘হৃৎস্পন্দনকে গুরুত্ব দিন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন