বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৫এন১) ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে চার শিশুর শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সরাসরি সংস্পর্শ থেকেই শিশুরা মূলত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।
ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা অ্যাট দ্য হিউম্যান-অ্যানিমেল ইন্টারফেস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই সংক্রমণগুলোর যোগসূত্র পাওয়া গেছে হাঁস ও মুরগির সঙ্গে। সর্বশেষ রংপুর বিভাগে আক্রান্ত শিশুটি অসুস্থ হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে এসেছিল বলে জানা গেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানান, চলতি বছর শনাক্ত হওয়া সব সংক্রমণই শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। হাঁস-মুরগির মাংস খাওয়ার চেয়ে সরাসরি সংস্পর্শে (যেমন—ধরা বা জবাই করা) আসার মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজে শরীরে প্রবেশ করে। তবে ভালোভাবে রান্না করা মাংস খেলে কোনো ঝুঁকি নেই।
২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১৭ জনের এইচ৫এন১ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ এবং খামারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার না করলে মহামারির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়।
শিশুদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগির থেকে দূরে রাখা এবং খামারকর্মী ও বিক্রেতাদের জন্য মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর কঠোর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন