হোম / স্বাস্থ্য / দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের ২৪ ট্রমা সেন্টার চাল...
স্বাস্থ্য

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর বিশেষ পরিকল্পনা

২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্কের উদ্যোগ সরকারের
ডেস্ক রিপোর্ট
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
৬৬ বার পঠিত
ফন্ট:
দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার একটি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে এখন থেকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালু করা হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কেন্দ্রেই চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা:

বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ করা হবে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় নতুন প্রকল্পেও এই কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে মেটাতে হবে।

অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে প্রাণহানি কমানোর উদ্দেশ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০০৪-০-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে এগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে।

এর একটি উদাহরণ হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কের এই কেন্দ্রটি ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকায় নির্মিত হলেও দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে গত কোরবানির ঈদের সময় ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে এটি চালু করা হলেও তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কেন্দ্রগুলো অবস্থিত। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল থাকার কথা থাকলেও তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

 

ড
ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+