দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর অবশেষে ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর এই আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিকে কেন্দ্র করে ইরাকজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং সরকার চার দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন শেষ মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইরাকি সরকার। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দেশটির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিক।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে সেনা কমানো হয়। সর্বশেষ গত বছর বেশির ভাগ সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হলেও কুর্দি অঞ্চলে কিছু সেনা অবস্থান করছিল, যা এখন সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত এক নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এটিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর মনে করেন, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থানের ফলে যে নিরাপত্তার শূন্যতা তৈরি হবে, তা সাধারণ ইরাকিদের জন্য বড় শঙ্কা তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অনুপস্থিতিতে তেহরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই মার্কিন উপস্থিতি ইরাকে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল। এখন এই বিদায়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হতে পারে।

আপনার মতামত দিন