হোম / খেলাধুলা / বিদায়ী ভাষণে যা বললেন আবেগাপ্লুত মেসি
খেলাধুলা

বিদায়ী ভাষণে যা বললেন আবেগাপ্লুত মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
১০২ বার পঠিত
ফন্ট:
মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসির মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও, চোখের কোণে জমে থাকা দু-এক ফোঁটা অশ্রু বলে দিচ্ছিল আকাশি-নীল জার্সিকে বিদায় জানানোর এই মুহূর্তটি কতটা ভারী।

বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে সেদিন এক অদ্ভুত নীরবতার সঙ্গে মিশে ছিল মুহুর্মুহু করতালি। মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসির মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও, চোখের কোণে জমে থাকা দু-এক ফোঁটা অশ্রু বলে দিচ্ছিল আকাশি-নীল জার্সিকে বিদায় জানানোর এই মুহূর্তটি কতটা ভারী।

কোচ লিওনেল স্কালোনি, সতীর্থ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, এনজো ফের্নান্দেস থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই ঐতিহাসিক বিদায়ী বার্তা। ৩৯ বছর বয়সে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া তাঁর আবেগঘন সেই বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

কৃতজ্ঞতা ও নাড়ির টান: দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য চরম সম্মানের। কঠিনতম মুহূর্তেও আমি কখনো লড়াই থামাইনি। এই আকাশি-সাদা আঙিনায় আর ফিরে না আসার বেদনা বিশাল। স্রষ্টার কসম, জীবনের বাকিটা সময়ও আমি এখানেই ফিরে আসতে চাইতাম, কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতানোই একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে দারুণ অনুভূতি।

সঠিক সিদ্ধান্ত ও সতীর্থদের অবদান: গত বিশ্বকাপটি আমার জন্য মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত চাপের ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের ভীষণ নিঃশেষ করে দিয়েছিল। তবে আমার সতীর্থরা এই শার্টের জন্য সর্বদা তাদের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার শিরোপা জয়ে তাদের সাথে মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া ছিল আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা: গ্যালারি সবসময় কানায় কানায় পূর্ণ রাখার জন্য আমি ধন্য। ম্যাচ যাই হোক না কেন, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি। বিশ্বজয়ের পর এই মাঠেই আমি ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের দিনটি উদযাপন করেছিলাম, যা আমাদের ইতিহাসে চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে থাকবে।

ঐক্য ও সমর্থনের আহ্বান: আজ আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষাদময় দিন, কারণ আজই আমি জাতীয় দলকে বিদায় জানাচ্ছি। তবে এখন থেকে আমি গ্যালারিতে আপনাদের পাশেই থাকব। আমরা যখন একত্রিত থাকি, তখন যে কোনো কিছুর চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি। সামনে কঠিন সময় আসতে পারে, তাই আমাদের এই তরুণদের পাশে আরও বেশি করে দাঁড়াতে হবে।

শেষ চাওয়া: সত্যি বলতে, আজ আমার যেতে ইচ্ছে করছে না, এই সবুজ গালিচা ছেড়ে মন চাইছে না। আমি শুধু এটুকু বলব—আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি। একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে আমি ঈশ্বরের কাছে চিরকৃতজ্ঞ এবং আপনাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরে আমি পরম গর্বিত।

ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আতশবাজির আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে বুয়েনস আইরেসের আকাশ। সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরে শূন্যে তুলে নেন, আর চোখের জল মুছে ফুটবলের এই জাদুকরকে বিদায় জানান ৮৫ হাজার দর্শক।

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

স
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+