হোম / জাতীয় / তাজমিনের যাত্রার সময় নিয়ে ধোঁয়াশা
জাতীয়

তাজমিনের যাত্রার সময় নিয়ে ধোঁয়াশা

Shahin Farrokh
১২ অক্টোবর, ২০২৬ | ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
৬১ বার পঠিত
ফন্ট:
প্রেমিক রাজুর দাবি, তাজমিনের বাবা তাকে বারবার ফোন করে অবস্থান জানতে চাওয়ায় এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে আসার তাগিদ দেওয়ায় তারা টিকিটের ব্যবস্থা করেন।

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরতে সাধারণত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগে। রাতের ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য সাধারণত রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে নাইট কোচে রওনা হন যাত্রীরা। কিন্তু কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমিন কেন রাতের পরিবর্তে দুপুর ১২টার বাসে রওনা হলেন—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।

তাজমিনের রহস্যজনক মৃত্যু ও এই দীর্ঘ যাত্রার নেপথ্য কারণ নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আইকনিক বাসের কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও তার প্রেমিক রাজু কাউন্টারে এসে পরদিন বুধবার দুপুর ১২টার টিকিট কাটেন। বাস ছাড়ে দুপুর ১টার দিকে। একা একটি মেয়ের জন্য সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করা হলেও, দুপুরে রওনা দিয়ে মধ্যরাতে শহরে পৌঁছানো কতটা নিরাপদ—সে বিষয়টি কেন গুরুত্ব পেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রেমিক রাজুর দাবি, তাজমিনের বাবা তাকে বারবার ফোন করে অবস্থান জানতে চাওয়ায় এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে আসার তাগিদ দেওয়ায় তারা টিকিটের ব্যবস্থা করেন। রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, হাতঘড়ি নিয়ে সৎমায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বান্ধবীর বাসায় যান এবং সেখান থেকে কক্সবাজারে তার কাছে চলে যান।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, নিখোঁজ থাকার পর ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে বলে জানায়। মা তাকে আনতে চাইলে সে কোনো সঠিক ঠিকানা বা পরিচয় দেয়নি। মেয়ের বন্ধু মহলের কারণে পরিবার আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল এবং কোনো অঘটন এড়াতে প্রায় ছয় মাস তাকে স্কুলে যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এত সতর্কতার পরও তাকে রক্ষা করা গেল না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তাজমিনের বাবা-মা তাকে বারবার তাড়া দেওয়ায় এবং কোথায় আছে জানতে চাওয়ায় দ্রুত বাড়ি ফেরার মানসিক চাপে পড়েন ওই কিশোরী। নিরাপত্তার বিষয়টি তখন তাদের মাথায় কাজ করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও প্রেমিক রাজু ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজারেও গেছেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে তাজমিনকে কক্সবাজার যেতে হতো না এবং হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি থেকেও সে রক্ষা পেত।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে বাসে ফিরে কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সিএনজিযোগে গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল তাজমিনের। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

 

 

S
Shahin Farrokh

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+