হোম / বিশ্ব / হুতিদের ঘনঘন হামলায় সৌদিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ,...
বিশ্ব

হুতিদের ঘনঘন হামলায় সৌদিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ, বাংকারে যুবরাজ সালমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
৭৬ বার পঠিত
ফন্ট:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে যুবরাজকে দফায় দফায় বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ৪১ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে যুবরাজকে দফায় দফায় বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত শনিবার দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা, যাতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। এই ঘটনার পর গত মঙ্গলবার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে দেখা গেলেও, এরপর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। বিশেষ একটি সুদক্ষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তার সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ার জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

হুতিদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে তাদের এই হামলা অব্যাহত থাকবে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উড্ডয়ন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সিরিয়াম'-এর তথ্য অনুযায়ী, অচলাবস্থার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের প্রায় ৬০ শতাংশ নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

হুতিদের এসব হামলার জবাবে সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে দেশটির কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন যে, একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে গিয়ে তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার করতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। বার্তা সংস্থা এপি-কে এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও বর্তমানে বেশ কম।

সৌদি আরবের এই সংকটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে রিয়াদের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিয়াদের ‘মক্কা চুক্তি’র মিত্র দেশগুলোও সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত শুরু হলে সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। সম্প্রতি ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতি প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী একটি ইরানি বিমানে সৌদি বাহিনী গুলি চালিয়েছে—হুতিদের এই অভিযোগের পর সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, "আরব উপদ্বীপের এই সংঘাতের ফলে কেবল ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে।" পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামরিক পথ এড়িয়ে রিয়াদকে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানান এবং হুতিদের সাথে আলোচনায় তেহরানের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

আ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+