ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটস্থ বাসভবনের সামনে এক নারীকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই নারী ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হলেও, পুলিশ জানিয়েছে এটি মূলত দুপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ছিল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দোলা সেনের অভিযোগ, তন্নিষ্ঠা সাহা নামের এক নারী—যিনি নিজেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চুক্তিভিত্তিক নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাগনি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন—সন্ধ্যা ৬টার দিকে মমতা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় তিনি রাস্তায় শুয়ে পড়েন বলেও দাবি করা হয়।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন। জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের এত কাছে তিনি কীভাবে পৌঁছালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির নেতারা। এছাড়া ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র সাকেত গোখলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত একজন নেত্রী নিজের বাড়িতেই নিরাপদ না থাকলে রাজ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থার অবস্থা কী? পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আটক নারীর নাম ৩৮ বছর বয়সী অনসূয়া সাহা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারীর মুখোমুখি হন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে আটক করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে ছুরি উদ্ধার বা ছুরি দিয়ে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ নেই। তাছাড়া আটক নারীর নাম ও পরিচয় নিয়েও তৃণমূলের অভিযোগের সঙ্গে পুলিশি বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন