গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসকে সার্বিক সহায়তা জোগাচ্ছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ইউনিট-২ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং তা পাশের একটি চারতলা ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আইএসপিআর-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিজিবি সদর দপ্তর থেকেও উদ্ধার অভিযানে তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের একটি ভবনে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের পেনসিলিং ভবনের চারতলায় বিস্তার লাভ করে। আগুনের লেলিহান শিখায় কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও তৈরি মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে তীব্র তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হওয়ায় আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারখানায় ব্যবহৃত নানা রাসায়নিকের কটু গন্ধে সেখানে অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরা ও আশপাশের স্টেশনগুলো থেকে ফায়ার সার্ভিসের একের পর এক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা ও রাসায়নিকের কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ফায়ার সার্ভিসসহ যৌথ বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণের জোর চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিংবা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন