রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নতুন করে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে সফলভাবে নিজ দেশে ফেরানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সরকার অতীতে অনুসৃত বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে নতুন করে কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে। তদুপরি, প্রতিবছর শিবিরে ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্ম হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সংকটকে কেবল মানবিক সহায়তার মধ্যে আটকে না রেখে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা ও অতীতের অভিজ্ঞতা
১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো ২ লাখ এবং ১৯৯২ সালে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে সফলভাবে মায়ানমানে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতের এসব সাফল্য প্রমাণ করে যে মায়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সম্পৃক্ততা থাকলে সমাধান সম্ভব।
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চীনকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়া সফল হয়নি। তাই বর্তমান সরকার জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহ (ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন) এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুনভাবে কাজ করছে। এছাড়া মায়ানমারের রাখাইনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশটির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ‘আরাকান আর্মিও’-র সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাদের নিরাপদে মায়ানমারে ফেরানোর ওপর জোর দেন। জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি সংকট সমাধানের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল:
নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের স্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন
সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ করা
স্থিতিশীল মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা
ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
চীন সফরকালে রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সতর্ক করে বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক জটিল। রাতারাতি সমাধান সম্ভব না হলেও বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চাপ অব্যাহত রাখবে, যাতে বাস্তবেই টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন