কক্সবাজারের ইনানীতে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়েন তিন বান্ধবী। প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন আইরিন জাহান মীম ও ইমা। তবে তাদের আরেক বান্ধবী নাসরিন আক্তার মুক্তা আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। চোখের সামনে রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন দুই বান্ধবী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে প্রিয় বন্ধুর অপেক্ষায় রিসোর্টের সামনেই অবস্থান করেন তারা।
শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত সবাই পর্যটক।
নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা সাভারের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবী আইরিন ও ইমা প্রাণে বাঁচলেও এই মর্মান্তিক ঘটনায় হারিয়েছেন প্রিয়জনের মতো কাছের একজনকে।
আইরিন জাহান মীম আমার দেশকে বলেন, সকালে তিনি ও ইমা হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নাসরিনকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু আরেকটু ঘুমানোর কথা বলে নাসরিন তাদের সঙ্গে যাননি। কিছুদূর যাওয়ার পরই তারা দেখতে পান, রিসোর্টে আগুন লেগেছে।
আইরিন বলেন, আগুন লাগার পর ইমা বারবার নাসরিনের মোবাইল ফোনে কল দিতে থাকেন। আর তিনি চিৎকার করে নাসরিনকে নিচে নেমে আসতে বলছিলেন। পরে রিসোর্টের পেছনের দিকে গিয়েও তাকে নিচে লাফ দিতে বলে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।
তিনি বলেন, ততক্ষণে বিকট শব্দে পুরো রিসোর্টে দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নাসরিনকে আর বাঁচাতে পারেননি তারা।
চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই বান্ধবী। আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে নাসরিনকে খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন।
তবু আশা ছাড়েননি আইরিন ও ইমা। প্রিয় বান্ধবীকে জীবিত পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও অন্তত তার মরদেহ খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশায় সারাদিন রিসোর্টের সামনে অপেক্ষা করেন তারা।
শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া তিন বান্ধবীর মধ্যে দুজন প্রাণে বাঁচলেও নাসরিনের আর ফেরা হলো না। আনন্দের ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকাবহ স্মৃতিতে।
মাতুভূমি/এএইচ

আপনার মতামত দিন