অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এই অভিযান চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর একদিনের মাথায় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এ নির্দেশনা দেওয়া হলো।
সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে শনিবার বিকেলে নিজের সংসদীয় আসন ঢাকা-৬-এর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক হোসেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করছেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও মারমুখী ভূমিকায় লোকজনকে ধাওয়া করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা-২০২৫' অনুযায়ী আত্মরক্ষায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও জনমনে ভীতি তৈরি করে এমন প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ত্র প্রদর্শনের এই ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা বিভাগ।
যদিও এক ফেসবুক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি সাময়িকভাবে লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে ঘটনার সময় উপস্থিত ওয়ারী বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আগে থেকে স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র প্রদর্শনের এই ঘটনা দল ও সরকারকে মারাত্মক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার আড়াই সপ্তাহের মাথায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যা সরকারের জবাবদিহিতার নীতিকেই স্পষ্ট করে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন