হোম / জাতীয় / খুচরা দোকানে মিলছে না সয়াবিন তেল
জাতীয়

খুচরা দোকানে মিলছে না সয়াবিন তেল

ডেস্ক রিপোর্ট
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ০১:৫৫ অপরাহ্ন
৮৮ বার পঠিত
ফন্ট:

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। মিরপুর, মালিবাগ ও মৌচাকসহ ঢাকার প্রধান প্রধান বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল চাহিদামতো মিলছে না। একদিকে সরবরাহের টানাপোড়েন, অন্যদিকে লিটারে মাত্র এক টাকা মুনাফার অলাভজনক হিসাব—এই দুই কারণে খুচরা বিক্রেতারাও বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ঝুঁকে পড়তে হচ্ছে বেশি দামের খোলা তেলের দিকে।

আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মিরপুরের মুসলিম বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের জন্য এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে দেখা যায় বেসরকারি চাকরিজীবী মিকদাদ আহমেদকে। প্রায় ১০টি দোকান ঘুরে শেষ পর্যন্ত একটি ব্র্যান্ডের আধা লিটারের বোতল ১০৫ টাকায় কিনতে সমর্থ হন তিনি। তবে বোতলের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে এক টাকা বেশি নেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ টাকার খুচরা না থাকায় অতিরিক্ত ১৫ টাকার শুকনো মরিচ কিনতে বাধ্য হন এই ক্রেতা। যেখানে অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত তেল নেই, সেখানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে লিটারপ্রতি ২০০ টাকায়।

বিক্রেতাদের মুখ থেকেও শোনা গেল অসন্তোষের কথা। ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, লিটারে মাত্র এক টাকা লাভ এবং চাহিদামতো সরবরাহ না থাকায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বোতলজাত তেল রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্য বিক্রেতা শাফায়েত যোগ করেন, বোতলজাত তেল রাখতে গেলে কোম্পানির বাড়তি পণ্যের শর্ত মানতে হয় এবং পাঁচ টাকার খুচরা নিয়েও ক্যাশে ঝামেলা পোহাতে হয়। ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, আগে বাকিতে তেল মিললেও এখন নগদ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা অতিরিক্ত পুঁজি আটকে রাখার সামিল। অনেকে ক্রেতাদের সুপারশপে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোম্পানিগুলো সাধারণ খুচরা দোকানে সরবরাহ না দিলেও সুপারশপগুলোতে ঠিকই নিয়মিত তেল দিচ্ছে।

বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের সরকারি দাম ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম ১,০০০ টাকা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই বাজারে যে টানা সংকট চলছে, তা এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরের দফায় দফায় দাম বাড়ানোর পরও স্বাভাবিক হয়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিটারে নতুন করে আরও ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানোর পরপরই কৃত্রিমভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বোতলজাত তেলের অভাবে মৌচাক বাজারের ক্রেতা আলী ইব্রাহিম আক্ষেপ করে বলেন, বাধ্য হয়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা লিটারে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে, যা রোজার আগে স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না। বাজার বিশ্লেষণে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া কোম্পানিগুলোর একটি নিয়মিত কৌশল। ছোট ব্যবসায়ীদের আমদানির সুযোগ দিয়ে বাজার উন্মুক্ত না করলে এ সিন্ডিকেট ও ভোগান্তি দূর করা সম্ভব নয়।

 

মাতুভূমি/এএইচ

 

 

ড
ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+