টানা তিন জয়ের পর হারের স্বাদ পেল লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামি। শনিবার নিউইয়র্ক রেড বুলসের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে তারা। ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে থাকা মেসি দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দলের আক্রমণে গতি ফেরালেও হার এড়াতে পারেননি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর আত্মঘাতী গোল এবং শেষ দিকে এমিল ফর্সবার্গের গোলে জয় নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক রেড বুলস।
স্পেনের ওভিয়েদোতে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণসহ ব্যস্ত ভ্রমণসূচির কারণে ম্যাচের শুরুতে মেসিকে একাদশে রাখেননি মিয়ামির কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেস। বৃহস্পতিবার স্পেনে পৌঁছানোর পর শুক্রবার ক্রীড়া বিভাগে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে শনিবার মাঠে নামেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মেসিকে শুরুতে বেঞ্চে রাখার ব্যাখ্যা দেন মিয়ামি কোচ। গঞ্জালেস জানান, মেসিকে নিয়ে এমন পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল। দীর্ঘ ভ্রমণ, সময়ের পার্থক্য, তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামনে বুধবার আরেকটি ম্যাচ থাকায় মেসির চোটের ঝুঁকি এড়ানোও ছিল তাদের লক্ষ্য।
গঞ্জালেস বলেন, ‘এটি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, তাকে দীর্ঘ ভ্রমণ, সময়ের পার্থক্য, তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছিলাম এবং সম্মত হয়েছিলাম যে, কোনো সমস্যা এড়াতে এটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে, বুধবার আমাদের আরেকটি ম্যাচ থাকায় আমরা চাইনি সে কোনো চোটে পড়ুক।’
মেসির মাঠে নামার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্য ছিল, তাকে পুনরুদ্ধারের সময় দেওয়া এবং আজ কিছু সময় খেলানোর সুযোগ তৈরি করা। বরাবরের মতোই সে ভালো খেলেছে।’
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার মিয়ামি। নিউইয়র্ক রেড বুলসের কেড কাউয়েলের ক্রস থেকে আসা বল যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্ট্রাইকার জুলিয়ান হলের চাপে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। ফলে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল।
এ মৌসুমে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ২৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা মেসি মাঠে নামেন ৫৬ মিনিটে। তবে তার আগমনের আগেই এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মিয়ামি।
মেসি মাঠে নামার পর মিয়ামির আক্রমণে নতুন প্রাণ ফিরে আসে। তার পরিচিত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতায় স্বাগতিক দর্শকদের সামনে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়। ম্যাচে সমতা ফেরানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগটিও আসে তার পাস থেকে।
রক্ষণভাগ ভেদ করে সতীর্থকে দারুণ একটি পাস দেন মেসি। সেই আক্রমণ থেকে শট নেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। কিন্তু তার নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য সমতায় ফেরা হয়নি মায়ামির।
দ্বিতীয়ার্ধে মেসি মাঠে নামার পর মিয়ামি গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে সফরকারীরা।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিউইয়র্ক রেড বুলস। ক্যামেরন হারপারের পাস থেকে সহজ ফিনিশিংয়ে গোল করেন এমিল ফর্সবার্গ। তার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রেড বুলস।
ম্যাচের পর নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মিয়ামি কোচ গঞ্জালেস। বিশেষ করে মাঝমাঠে বল হারানো, নিজেদের গোলমুখের দিকে মুখ করে অতিরিক্ত পাস দেওয়া এবং পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।
গঞ্জালেস বলেন, ‘মাঝমাঠে আমরা অনেক বেশি বল হারিয়েছি। নিজেদের গোলমুখের দিকে মুখ করে অনেক পাস খেলেছি এবং পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে সমস্যায় পড়েছি। এর দায় আমাকে নিতে হবে।’
থামল মেসির টানা ১৩ ম্যাচে গোল-অবদানের ধারাও
নিউইয়র্কের কাছে হারের ফলে মিয়ামির টানা তিন ম্যাচ জয়ের ধারার অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে থেমেছে মেসির ব্যক্তিগত ধারাবাহিকতাও। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে গোল করা অথবা গোলে অবদান রাখার পর এবার সেই ধারায় ছেদ পড়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার।
মাতুভূমি/এএইচ

আপনার মতামত দিন