যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রশমনের আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর এই দরপতন ঘটলেও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। ফলে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৪টা ২৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৩ ডলার বা ২ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক শূন্য ৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ২ দশমিক ২১ ডলার বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়লে তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে তেলের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সোমবার সকালে কিছুটা কমেছে, যা গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে এই স্বস্তির পরিস্থিতি সাময়িক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা হতে পারে—বাজারে এমন প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি দূর করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরির মতে, তাই তেলের বাজারে অস্থিরতা উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে এবং দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকিও এখনো বেশি।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন