নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আংশিক মেয়াদের দায়িত্বে তিনি সহমর্মিতাপূর্ণ নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর দেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরডার্ন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট, সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও জনকল্যাণ নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি তিনি অতিথি বক্তৃতা, বিশেষ ক্লাস পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
নতুন ভূমিকা সম্পর্কে আরডার্ন জানান, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বকে উৎসাহিত ও সমর্থন করাই তার মূল লক্ষ্য। তার এই নতুন সংযোজন প্রসঙ্গে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট বলেন, "নিউজিল্যান্ডকে সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় জেসিন্ডা আরডার্ন প্রমাণ করেছেন সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একটি অন্যটিকে আরও শক্তিশালী করে।"
প্রচলিত রাজনীতির প্রতি মানুষের অসন্তুষ্টি ও কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে আরডার্ন সবসময় সহমর্মিতাপূর্ণ রাজনীতির পক্ষে মত প্রকাশ করে আসছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আরডার্ন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তার পাঁচ বছরের শাসনামলে নিউজিল্যান্ড ক্রাইস্টচার্চ হামলা, হোয়াকারি অগ্নুৎপাত ও কভিড-১৯ মহামারির মতো ভয়াবহ সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করে।
রাজনীতি ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন এবং ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোচিত স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’। সম্প্রতি তিনি পরিবারসহ সিডনিতে বসবাস শুরু করেছেন।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন