হোম / বিশ্ব / ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?
বিশ্ব

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
৬০ বার পঠিত
ফন্ট:
ইসরায়েলি দুটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইজেনকোটের 'ইয়াশার পার্টি' এবং তার 'পরিবর্তন জোটের' মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ৫১টি আসন পেতে পারে, যা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার অতি-ডানপন্থী মিত্রদের আসন সংখ্যার সমান। তবে অন্য একটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে তিন আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো দলেরই স্পষ্ট বিজয়ের আভাস মিলছে না। অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোট—কারো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দৌড়ে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে নেই।

ইসরায়েলি দুটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইজেনকোটের 'ইয়াশার পার্টি' এবং তার 'পরিবর্তন জোটের' মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ৫১টি আসন পেতে পারে, যা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার অতি-ডানপন্থী মিত্রদের আসন সংখ্যার সমান। তবে অন্য একটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে তিন আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যৌথভাবে রেকর্ড ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে যাওয়া দুটি আরব দল এবার সরকার গঠনে মূল ক্ষমতার নিয়ামক বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য মতে, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। অনাবাসিক ও পোস্টাল ব্যালটের প্রায় ৬ লাখ ভোট বৃহস্পতিবারের আগে পুরোপুরি গণনা করা সম্ভব হবে না। এ গণনার কাজ শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন।

প্রাথমিক বুথফেরত সমীক্ষায় বিরোধী জোট সামান্য এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির সদর দপ্তরে উদযাপনে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা। এ সময় গ্যাডি আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "জনগণের সিদ্ধান্তকে একটি স্থিতিশীল ও সিয়োনিস্ট সরকারে রূপান্তরিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যা দেশের সব নাগরিকের জন্য মঙ্গলজনক হবে।"

তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট এক শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লিকুদ পার্টির জেরুজালেম সদর দপ্তরে বেশ থমথমে পরিবেশ দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডোন সার বামপন্থীদের এই আনন্দকে 'অকালপক্ব' বলে মন্তব্য করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সমর্থকদের প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে বুধবার ভোরে নেতানিয়াহু সমর্থকদের সামনে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, তার ডানপন্থী জোটের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি একটি ‘শক্তিশালী ও ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের জন্য আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, আরব দল ইউএএল (UAL)-এর নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করে বলেন, পরিবর্তন জোট ও আরব দলগুলো মিলে নেসেটে ৬১টি আসনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে। একই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যৌথ তালিকার চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন সতর্ক করে বলেন, "যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের উপেক্ষা করা যাবে না।"

ভোট প্রদানকালে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ভোটার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করলেও অনেক সমর্থক তাকেই বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের যোগ্য নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এর আগে ভোটের দিন সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, ভোটাররা নিষ্ক্রিয় থাকলে বিরোধী দল ও আরব দলগুলো মিলে সরকার গঠন করবে। উল্লেখ্য, ভোটের দিন রাত ১০টার পর সময় বাড়ানোর জন্য ডানপন্থী দলগুলো আবেদন জানালেও সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

 

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

আ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+