ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, গাজা-লেবানন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বুথফেরত ও আংশিক ফলাফলে তার দল লিকুদ পার্টি গত নির্বাচনের চেয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলাফলের ইঙ্গিত দেওয়ায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর নির্বাচনি ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তবে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে (নেসেট) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে লিকুদ পার্টি এককভাবে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও অন্যান্য ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা চালাতে পারেন নেতানিয়াহু।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে সাফল্য-ব্যর্থতার চেয়েও দেশটিতে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি ভোটারদের বড় অংশকে প্রভাবিত করে। নেতানিয়াহুর শক্তির প্রধান তিন উৎস—অতি-রক্ষণশীল ইহুদি গোষ্ঠী, কট্টর ডানপন্থী এবং তার অন্ধ সমর্থক গোষ্ঠী। তবে ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা, বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার, আন্তর্জাতিক দরবারে ইসরায়েলের একঘরে হয়ে পড়া এবং দুর্নীতি মামলার খড়্গ তার ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও এই জনঅসন্তোষকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। নির্বাচনের ঠিক আগের জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর চেয়ে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোট জনপ্রিয়তায় কিছুটা এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের দলের মধ্যে একটি মধ্যপন্থী সমঝোতা জোট গঠিত হতে পারে, অথবা দেশটিকে আবারও নতুন কোনো নির্বাচনের দিকে হাঁটতে হতে পারে। তবে রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নেতানিয়াহু এবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল আঁটছেন।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন