হোম / বিশ্ব / ভোটে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন ব্র...
বিশ্ব

ভোটে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন ব্রাজিলের ফ্লাভিও বলসোনারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ০১:২৮ অপরাহ্ন
৫৬ বার পঠিত
ফন্ট:
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে।

ব্রাজিলের বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর ফ্লাভিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি। এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ উপেক্ষা করে তার এই দেশত্যাগের ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ফ্লাভিও, তার স্ত্রী এবং দুই মেয়ের বর্তমান সুনির্দিষ্ট অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তার পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে তিনি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।

পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ ও অর্থ পাচার তদন্ত
অর্থ পাচারের একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিওর পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই সিনেটর। গত সোমবার তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর তার পাসপোর্টগুলো বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছে দুটি সূত্র।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ফ্লাভিওর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা এবং তার প্রচুর আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে—এমন বিষয়টি বিবেচনা করেই পাসপোর্টে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে পাসপোর্টের সময়সীমা ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ব্রাজিল ত্যাগ করলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। দেশটির ফেডারেল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত কোনো অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি দেশ ছাড়েননি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সিনেটে তার মেয়াদ শেষ হলে আইনি সুরক্ষাও হারাতে চলেছেন তিনি।

লুলার ক্ষোভ ও দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনের শঙ্কা
ফ্লাভিওর এই আকস্মিক দেশত্যাগে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে চলেছে। ব্রাসিলিয়ায় এক বক্তব্যে লুলা বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ব্রাজিলে থেকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত ছিল ফ্লাভিওর; এভাবে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচারিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প ফ্লাভিওর দেশত্যাগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর জাইর বলসোনারোও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আসার পর ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনে তার সমর্থকদের হামলা ও অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

 

 

মাতুভূমি/এসএফ

আ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+