ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং সুনিশ্চিত করার দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হলেও এর নেপথ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি অ্যাপভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স মালিক।
বুধবার সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ২ নম্বর ভবনের সামনে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
অ্যাপভিত্তিক সেবা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ:
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢামেকের সাবেক পরিচালক রোগীদের সুবিধার জন্য একটি অ্যাপভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই সেবার নামে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হতো—যেখানে এক হাজার টাকার ভাড়া আড়াই হাজার এবং আট হাজার টাকার ভাড়া ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো।
ওই সদস্যের দাবি, এই অ্যাপভিত্তিক সেবা থেকে একটি বিশেষ পক্ষ দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেত, যা মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়াত। হাসপাতালে নতুন পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী সেবাটি বন্ধ করে দেওয়ায় অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
অন্য এক অ্যাম্বুলেন্স মালিকের মতে, পার্কিংয়ের দাবিটি মূলত বন্ধ হওয়া অ্যাপভিত্তিক সেবা পুনরায় চালু করার একটি বাহানা মাত্র। এমনকি ধর্মঘট পালন না করা মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেবা প্রদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এই ধর্মঘটের যাবতীয় খরচ অ্যাপভিত্তিক সেবার সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী বহন করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ধর্মঘট জোরদারের হুঁশিয়ারি:
প্রতিবেদন সূত্র জানায়, এই আন্দোলন ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলীর নাম উঠে এসেছে। তাঁদের দলীয় পরিচয়ের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মেডিকেল ইউনিট অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী জানান, বুধবারের মধ্যে তাঁদের পার্কিং সংক্রান্ত দাবি আদায় না হলে বৃহস্পতিবার থেকে পুরো ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্মঘটের পরিধি বাড়ানো হবে।
বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের কারণে রোগীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য ও পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন