ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের চেঞ্জ ব্লকের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১টি আসন) অর্জন করতে পারেনি তাঁর ডানপন্থী জোট। ফলে দেশটিতে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৮অক্টোবর) ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জানা যায়, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাদের উগ্র ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তাঁর মিত্রদের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাওয়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। তবে বেশির ভাগ ইহুদি দলই তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অনুপস্থিত প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটারের হিসাব বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। নির্ধারিত সময়ে কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা ও তৎপরবর্তী গাজা-লেবানন যুদ্ধের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতা, সামরিক বাহিনীতে অতি-রক্ষণশীলদের নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান মূল ইস্যু হয়ে ওঠে। নির্বাচনের পর লিকুদ পার্টি কারচুপির দাবি করলেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্তই এখন ইসরায়েলের পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবে।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন