যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার পুরনো অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব অর্জনে তথ্য গোপনের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের তথ্য সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের নাগরিক আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেন ইলহান ওমর। তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এলমি সম্পর্কে ওমরের ভাই এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতেই এই সাজানো বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। সে সময় তাদের মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার কিছু ইঙ্গিত মিললেও, ৫ বছরের আইনি সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনস) পার হয়ে যাওয়ায় ২০২১ সালে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয় মিনেসোটার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ শুরু থেকেই সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন ইলহান ওমর। তার দাবি, এটি তার বিরুদ্ধে একটি বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মাত্র।
এদিকে ওমরের বৈবাহিক জীবন ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে তোলপাড়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মুঠোফোন, কম্পিউটার, নোটবুক ও পাসপোর্ট জব্দ করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি ভুল নাম বা জন্মতারিখ ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং তার বাবার আইনি অবস্থান সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল ও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
মাতুভূমি/এসএফ

আপনার মতামত দিন