বলিউডের জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেত্রী টাবু পা রেখেছেন জীবনের ৫৫তম বছরে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক প্রশংসিত চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে চিরস্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন তিনি। তবে পর্দার বর্ণিল সাফল্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত এবং অতীতের সম্পর্কগুলো নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের অন্ত নেই।
অবিবাহিত থাকা ও অজয় দেবগন প্রসঙ্গ:
টাবুর বিয়ে না করার বিষয়ে বলিউডে অনেক মজার ঘটনা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতা অজয় দেবগনের সঙ্গে তার রসিকতা অন্যতম। গত বছর ‘অরোঁ মে কাহাঁ দাম থা’ সিনেমার প্রচারের সময় পুরোনো একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে টাবুর উপযুক্ত জীবনসঙ্গী কে হতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অজয় মজা করে বলেছিলেন, “টাবু কো ম্যায় চাহিয়ে, উসকো ও মিল নেহি সাকাতা” অর্থাৎ, টাবু তাকেই চান, কিন্তু তাকে পাওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে অবশ্য অজয় জানান যে তিনি কেবল তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৭ সালেও টাবু মজার ছলে বলেছিলেন, ছোটবেলায় অজয় ও তার কাজিন তাকে অনুসরণ করতেন এবং তার আশপাশে কোনো ছেলে ঘেঁষতে দিতেন না। তাই অবিবাহিত থাকার জন্য হাসিখুশিতে অজয়কেই দায়ী করেছিলেন তিনি। তবে এসবই ছিল কেবল খুনসুটি ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ।
অতীতের সম্পর্ক ও গুঞ্জন:
টাবুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে অতীতেও নানা আলোচনা হয়েছে। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেম’ সিনেমার শুটিংকালে অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা শোনা গেলেও তা বেশিদূর এগোয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে সম্পর্কের কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন অভিনেত্রী। যদিও পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে, তবুও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব বজায় ছিল। এ ছাড়া দক্ষিণী তারকা নাগার্জুনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চললেও দুজনই বিষয়টি বরাবরই ব্যক্তিগত পরিসরে রেখেছেন।
বিয়ে নিয়ে টাবুর স্পষ্ট ভাবনা:
বিয়ে না করাকে কখনোই জীবনের কোনো অপূর্ণতা বা ব্যর্থতা মনে করেন না টাবু। ২০১৬ সালে ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, একা থাকা বা না থাকা কেবল একজন মানুষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে সময় ও পরিস্থিতিও জড়িত। অবিবাহিত জীবনে তার কোনো অপ্রাপ্তি নেই বলেই তিনি মনে করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। টাবুর মতে, ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে একা থাকা অনেক ভালো। একটি আদর্শ সম্পর্ক মানুষকে বিকশিত করে এবং স্বাধীনতা দেয়, কোনো অবস্থাতেই তা যেন আটকে রাখার মতো না হয়—এমনটাই তার বিশ্বাস।
১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি অর্থাৎ টাবু শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। ‘মাচিস’, ‘চাঁদনি বার’, ‘দৃশ্যম’ কিংবা ‘আন্ধাধুন’-এর মতো সিনেমা তাকে এনে দিয়েছে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননা। ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজের স্বাধীনতা ও অভিনয়কেই প্রধান প্রাধান্য দিয়ে সগৌরবে পথ চলেছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

আপনার মতামত দিন