হোম / সারাদেশ / জাজিরায় পদ্মার তীব্র ভাঙন: বিলীন ২০০ মিটার, ঝ...
সারাদেশ

জাজিরায় পদ্মার তীব্র ভাঙন: বিলীন ২০০ মিটার, ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১০:৪৩ অপরাহ্ন
৪৭ বার পঠিত
ফন্ট:
পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত আর ভয়াবহ ভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় একের পর এক বিলীন হচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটি।

পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত আর ভয়াবহ ভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় একের পর এক বিলীন হচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিদ্যুতের খুঁটি। চোখের সামনে জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে হাহাকার ও অনিশ্চয়তা।

গত সাত দিনে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ইটের রাস্তা, তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি ও সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ২০০ মিটার এলাকা। ভাঙনের বিস্তার এখন কাথুরিয়া ছাড়িয়ে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পালেরচর বাজার, মাঝিরঘাট ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সরজমিনে কাথুরিয়া পদ্মার পাড়ে গিয়ে নদীভাঙনের এক করুণ দৃশ্য দেখা যায়। ভাঙন থেকে ঘরবাড়ি ও দোকান রক্ষায় নিজেদের মালামাল সরাতে ব্যস্ত স্থানীয়রা। কেউ ঘরের টিনের চালা-বেড়া খুলছেন, কেউ বা পূর্বপুরুষের কবরের নদীর পেটে চলে যাওয়া দেখে নির্বাক দাঁড়িয়ে আছেন। ইতোমধ্যেই অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি ও সাতটি দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো এখন আত্মীয়ের বাড়িতে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন।

ভাঙনকবলিত বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অস্থায়ী পদক্ষেপ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় নদী ভাঙতে শুরু করলে নামমাত্র বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এতে ভাঙন রোখা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, "আমরা শুকনো খাবার, নগদ টাকা কিংবা জিওব্যাগ চাই না; আমরা চাই কেবল একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ।" বর্ষা না এসে শুকনো মৌসুমে বা শীতকালে বাঁধের কাজ কেন শুরু করা হয় না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভিটামাটি হারা ভুক্তভোগীরা।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের পদ্মা সেতু এলাকা থেকে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ৩৯টি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে পদ্মার জিরো পয়েন্ট থেকে পালেরচর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। কাথুরিয়া এলাকায় প্রকল্পের ১২ ও ১৩ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ফেলানো জিওব্যাগ নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, নদীতে অতিরিক্ত পানি ও তীব্র স্রোতের কারণেই এই আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশের মধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটারের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমের কারণে নদীতে মূল বাঁধ নির্মাণের কাজ আপাতত বন্ধ রেখে কেবল ঠিকাদারদের মাধ্যমে ব্লক তৈরির কাজ চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙনকবলিত কাথুরিয়া এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত আছে।

শ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+