উগ্র ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সামরিক সরকারের লড়াইয়ের ঘোষণা
Super Admin
২৭ জুলাই, ২০২৬ | ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
৬১ বার পঠিত
ফন্ট:
শেয়ার
করুন:লিংক
কপি হয়েছে!
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির উগ্রপন্থি মনোভাবাপন্ন মুসলিম আলেমদের বির...
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির উগ্রপন্থি মনোভাবাপন্ন মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির উগ্রপন্থি মনোভাবাপন্ন মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, 'উগ্র ইসলাম' বা চরমপন্থা প্রচারের চেষ্টা করা হলে তা সরকার শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে।
সম্প্রতি দেশটির নতুন ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন’-এর সমর্থনে ট্রাওরে বলেন, "যারা ধর্মের নামে চরমপন্থা ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি এটাই আপনাদের ইসলাম হয়, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। চরমপন্থিদের বদলাতে হবে, অন্যথায় যুদ্ধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।"
নতুন আইনটি বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো ইমাম জুমার খুতবা বা ওয়াজে চরমপন্থি মতাদর্শ ছড়ালে তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। তবে শান্তিপূর্ণ ও প্রকৃত ইসলামের বার্তা প্রচারকারী আলেমদের সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। পাশাপাশি বিদেশি শক্তি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের সঙ্গে দেশের প্রভাবশালী সুন্নি আলেমদের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। মে মাসে বিতর্কিত এই আইনের সমালোচনা করায় সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী ওয়াগাদুগুর প্রধান সুন্নি মসজিদটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এপ্রিলে একইভাবে আটক হন আরেক আলেম ইমাম মাহমুদ বারো।
গত ২০ জুন পাস হওয়া নতুন আইনে ধর্মের দোহাই দিয়ে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা, আর্থিক তথ্য গোপন রাখা এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এটি রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে। যদিও সমালোচকদের দাবি, আইনটির মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক নিয়মেও পরিবর্তন আনছে ট্রাওরে সরকার। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বিদেশে ইসলামি শিক্ষা নিতে ইচ্ছুক বুরকিনাবে শিক্ষার্থীদের এখন থেকে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। শিক্ষা শেষে দেশে না ফিরলে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বুরকিনা ফাসো ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্ক জোরদারের পথে হাঁটছে।
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি সহিংসতায় জর্জরিত বুরকিনা ফাসোয় প্রভাবশালী আলেমদের সঙ্গে সরকারের এই বিরোধ ট্রাওরে প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত দিন