নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে সালিশ বৈঠকে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ওমর নাসির সাজু (২৬), ওমর শরিফ সুলতান (২২) এবং মো. সৌরভ (২৬)। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কুদরত উল্যাহ (৫৫), ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি (২৪) ও হারুনুর রশিদ বাবুল (৪০)। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ রাব্বি (২০) ও মো. মামুন (২৩)।
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজের পুকুরে একটি কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজীবের সঙ্গে আসামি সৌরভের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য ওই দিন সন্ধ্যায় নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস এলাকায় সালিশ বৈঠক ডাকা হয়।
রাজীব ও তার দুই বন্ধু ওয়াসিম এবং ইয়াছিন বৈঠকে পৌঁছালে আসামিরা তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার দুই বন্ধু ওয়াসিম ও ইয়াছিন।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৩১ মে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরে আলম ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

আপনার মতামত দিন