হোম / সারাদেশ / ভেকু দিয়ে খাল খনন: কালাইয়ে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা...
সারাদেশ

ভেকু দিয়ে খাল খনন: কালাইয়ে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
৬০ বার পঠিত
ফন্ট:
প্রকল্পের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার এই কাজে স্থানীয় গরিব শ্রমিকদের বঞ্চিত করে যন্ত্রের (ভেকু) মাধ্যমে খনন কাজ চালানো হয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় কানমনা-হারাবতী খাল পুনঃখননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার এই কাজে স্থানীয় দিনমজুরদের বঞ্চিত করে স্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কানমনা-হারাবতী খালের রোয়াই সুইচগেট থেকে বানদীঘি গ্রাম পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই খালের আরও ৫ দশমিক ৯০৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭১ লাখ ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় ‘কানমনা-হারাবতী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’।

নীতিমালা অনুযায়ী কাজের অন্তত ৫০ শতাংশ অংশ শ্রমিকের হস্তশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং কাগজ-কলমে প্রতিদিন ১৮০ জন নারী-পুরুষের কাজের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো শ্রমিক নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে দিন-রাত ছয়টি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে খনন পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি খালের নির্ধারিত গভীরতা ও প্রশস্ততা না বাড়িয়ে কেবল পাড়ের ঘাস চেঁছে ও আগাছা পরিষ্কার করে পুরো বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের আশঙ্কা, কাজ যথাযথ না হওয়ায় প্রথম বর্ষাতেই মাটি ধসে খাল ভরাট হয়ে যাবে এবং কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের পরিমাপ করার দাবি জানান।

শ্রমিক না নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর জানান, "কাজে শ্রমিক ব্যবহার করা না হলেও ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করা হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে অন্য বিষয়গুলো সঠিক পাওয়ায় ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে ৫৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।"

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পরিচালনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম দাবি করেন, সরকারি নির্দেশনা ও নকশা মেনেই কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে। কাজ শেষে ‘পোস্ট ওয়ার্ক’ মেজারমেন্ট অনুযায়ী মেপে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে। খনন কম হলে বিলও কম দেওয়া হবে।

ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদক

আপনার মতামত দিন

ফটো কার্ড ডাউনলোড করুন
News Image
dailymatribhumi.com
logo
+