দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া থেকে সাড়ে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে দেশটি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এক জনসভায় বক্তব্যকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক ও কার্যকর আলোচনার ফলেই এই যৌথ প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্ভব হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখ ১ হাজার ১৭১ জন এবং মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চাপ এবং সঠিক কূটনৈতিক কৌশলের কারণে মিয়ানমার অবশেষে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, ইতিপূর্বে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকার করায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে তাদের মানবিক আশ্রয় দিতে হয়। তবে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে এখন পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
একইসঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সামাজিক অশান্তি সহ্য করা হবে না এবং স্থানীয় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত দিন