রংপুর নগরীর একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মরদেহে কোনো এসিড বা দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি। তবে চরম গরম ও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে মরদেহগুলোতে দ্রুত পচন ধরেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্তভার মহানগর কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবি (গোয়েন্দা বিভাগ)-তে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং শিশুসন্তান আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়া সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহে এসিড বা কোনো রাসায়নিকের ব্যবহার হয়নি এবং ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতও পাওয়া যায়নি। সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি সুমিত চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময়, মূল কারণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়েছিল কি না—এ চারটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত আলামত ও আসামিদের ডিএনএ নমুনা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুত ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে।
পুলিশের তদন্ত মতে, ঘটনার দিন পাশের ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে উঠে মাদক সেবন করছিল অভিযুক্তরা। গণপতি চক্রবর্তী তাতে বাধা দিলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িটিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাখতে তারা বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও সার্বিক আলামত পর্যালোচনার পর বিজ্ঞ আদালতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশ।

আপনার মতামত দিন