ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বসতবাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শালিস বৈঠকে বাইরের আত্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত রাখার অভিযোগে একটি পরিবারকে একঘরে (সমাজচ্যুত) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের সদস্যদের স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য খালিদ হাসান বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৪ ও ৩০ জুলাই দুই দফা স্থানীয় শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাপজোখের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরের কিছু আত্মীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে উপস্থিত রাখায় স্থানীয় মাতুব্বররা ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ৩১ জুলাই এবং সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা ডেকে আব্দুর রফিক শেখের পুরো পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেও নিষেধ করা হয়।
বাদী খালিদ হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি অভিযুক্তদের কয়েকজনের কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাঁদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। উল্টো ওই পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখলে তাঁকেও একঘরে করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ‘চর নওয়াপাড়া একতা যুব সমাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সমাজচ্যুত করার সভার অডিও ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা পরিবারটিকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিচার বা কাউকে সমাজচ্যুত করার অধিকার কারও নেই।

আপনার মতামত দিন