২০২৬ সালের বিশ্বকাপ নানা কারণেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রথমবার ৪৮ দলের অংশগ্রহণ, তিন দেশের যৌথ আয়োজন এবং ফাইনাল বিরতিতে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য 'হাফটাইম শো'—সব মিলিয়ে অনন্য এক আসর ছিল এটি। এই আসরে রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাসের অংশ হলেও, টুর্নামেন্ট জুড়ে ও ফাইনালের বিতর্কিত আচরণ নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আলবিসেলেস্তেদের। ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া কিছু শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
তদন্তের মূল কেন্দ্রে রয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের রাজনৈতিক স্লোগানসংক্রান্ত বিতর্কিত উদযাপন। ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় একটি বিতর্কিত ব্যানার ও পতাকা প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল—‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার)।
ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বা আদর্শিক বার্তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ফিফার অত্যন্ত কঠোর এবং নিরপেক্ষ নীতি রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার আচরণবিধি অনুযায়ী, খেলায় রাজনৈতিক প্রচারণা বা উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ফিফার তদন্তে যদি নিয়ম লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।
এ ছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালীন সার্বিক সাংগঠনিক দায়িত্ব, নিরাপত্তা ও সমর্থকদের আচরণের বিষয়টিও ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির খতিয়ে দেখার আওতায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক রায় প্রকাশ করা হয়নি।

আপনার মতামত দিন